ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মধ্যনগরে অভিযান। জাতীয় নাগরিক পার্টির ধর্মপাশায় নতুন সমন্বয় কমিটি। বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়েঐতিহ্যের ধারায় প্রাণবন্ত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আত্মসামাজিক উন্নয়নের লক্ষে,ধর্মপাশায় প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির কার্যালয় উদ্বোধন। ধর্মপাশায় ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’-এর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফি বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদে থানায় অভিযোগ প্রবাসীদের অর্থায়নে বড়ইআটি(কাইয়ুম নগর)মিনি নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মপাশায় মহান বিজয় দিবস পালিত। কলমাকান্দা পূর্ব বাজারে লরির চাপায় নারী নিহত ৯ই ডিসেম্বর বেগম রোকিয়া দিবস২০২৫ পালিত হয়

ধর্মপাশায় ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটের রঙ্গিন আমেজ।

সাইফুল ইসলাম

ধর্মপাশায় ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটের রঙ্গিন আমেজ।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা—ঐতিহ্য আর আবেগে জড়ানো একটি নাম। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে জমে ওঠে এখানকার ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট।

ঈদের মাত্র একদিন আগে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা।
হাটজুড়ে চোখে পড়ে নানা রঙের, নানা আকৃতির গরু। ছোট-বড়, লাল-সাদা, কালো কিংবা ধূসর—প্রতিটি গরুর মধ্যেই যেন একেকটি গল্প।

কেউ এসেছে হাওরের বুক চিরে, কেউ বা এসেছে পাশের কোনো গ্রামের খামার থেকে। হাটে দেখা মেলে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের, যারা বছরের পর বছর ধরে গরু লালন-পালন করে এই হাটে বিক্রি করে থাকেন।

ভাটি এলাকার প্রকৃতিক ঘাস আর বিশুদ্ধ পানিতে পালিত এসব গরু অধিকাংশই রোগমুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা। অনেক খামারীই বলেন, “আমরা গরু মোটাতাজা করতে কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করি না।
দ শুধু খাঁটি খাবার আর ভালোবাসা দিয়েই গরু বড় করি।”
ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে দরদাম, চলছে পর্যালোচনা। কেউ গরুর দাঁত গুনছেন, কেউ বা পরীক্ষা করছেন তার শক্তি ও গঠন। সবার চোখে মুখে ঈদের আনন্দ আর গরু কেনার উত্তেজনা।
তবে হাটটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু ভিন্ন মত রয়েছে। বাজার কমিটির একজন সদস্য জানান, “এ হাটটি ব্যক্তিমালিকানাধীন। কেউ চাইলে হাটে গরু তুলতে দেয়, আবার কেউ কেউ দেয় না। অনেক সময় তা সমস্যা সৃষ্টি করে।”
তবুও শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও ধর্মপাশার গরুর হাট একটি পরিচিত নাম, একটি আস্থার জায়গা। এখানকার গরু মানে বিশুদ্ধতা, ঐতিহ্য আর এক টুকরো ভাটি জনপদের নিঃস্বার্থ শ্রমের ফল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫
৪৩৭ Time View

ধর্মপাশায় ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটের রঙ্গিন আমেজ।

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫

ধর্মপাশায় ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটের রঙ্গিন আমেজ।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা—ঐতিহ্য আর আবেগে জড়ানো একটি নাম। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে জমে ওঠে এখানকার ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট।

ঈদের মাত্র একদিন আগে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা।
হাটজুড়ে চোখে পড়ে নানা রঙের, নানা আকৃতির গরু। ছোট-বড়, লাল-সাদা, কালো কিংবা ধূসর—প্রতিটি গরুর মধ্যেই যেন একেকটি গল্প।

কেউ এসেছে হাওরের বুক চিরে, কেউ বা এসেছে পাশের কোনো গ্রামের খামার থেকে। হাটে দেখা মেলে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের, যারা বছরের পর বছর ধরে গরু লালন-পালন করে এই হাটে বিক্রি করে থাকেন।

ভাটি এলাকার প্রকৃতিক ঘাস আর বিশুদ্ধ পানিতে পালিত এসব গরু অধিকাংশই রোগমুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা। অনেক খামারীই বলেন, “আমরা গরু মোটাতাজা করতে কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করি না।
দ শুধু খাঁটি খাবার আর ভালোবাসা দিয়েই গরু বড় করি।”
ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে দরদাম, চলছে পর্যালোচনা। কেউ গরুর দাঁত গুনছেন, কেউ বা পরীক্ষা করছেন তার শক্তি ও গঠন। সবার চোখে মুখে ঈদের আনন্দ আর গরু কেনার উত্তেজনা।
তবে হাটটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু ভিন্ন মত রয়েছে। বাজার কমিটির একজন সদস্য জানান, “এ হাটটি ব্যক্তিমালিকানাধীন। কেউ চাইলে হাটে গরু তুলতে দেয়, আবার কেউ কেউ দেয় না। অনেক সময় তা সমস্যা সৃষ্টি করে।”
তবুও শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও ধর্মপাশার গরুর হাট একটি পরিচিত নাম, একটি আস্থার জায়গা। এখানকার গরু মানে বিশুদ্ধতা, ঐতিহ্য আর এক টুকরো ভাটি জনপদের নিঃস্বার্থ শ্রমের ফল।